পাইকগাছা আদালত ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, ধসে পড়ল ছাদ

পাইকগাছা প্রতিনিধি

পাইকগাছা চৌকি আদালতের জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। গত মঙ্গলবার দিনগত রাত তিনটার দিকে আদালতের সিএসআই (কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর) অফিস কক্ষের ছাদ ধসে পড়ে। রাতে এ ঘটনা ঘটায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ছাদ ধসে পড়ার সময় বিকট শব্দ হয়। শব্দ শুনে আদালতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তাঁরা দেখতে পান, ছাদের ভেঙে পড়া অংশ কক্ষের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ছাদের পলেস্তারা ও নির্মাণসামগ্রীর বড় অংশ নিচে পড়ে যায়।

আদালত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবনটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের বেশ কিছু অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই একটি অংশ ধসে পড়ায় পুরো ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পাইকগাছা কোর্টের সিএসআই মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, ছাদ ধসে পড়ার ঘটনা দিনের বেলায় ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এমনকি ছাদের ভেঙে পড়া অংশ তাঁর মাথার ওপর পড়ার আশঙ্কাও ছিল।

স্থানীয় সূত্র ও আদালত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলার দুর্গম এলাকা হিসেবে ১৯৮৩ সালে পাইকগাছায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সিনিয়র সহকারী জজ চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন অংশে এখন জরাজীর্ণতার ছাপ স্পষ্ট। দেয়াল ও ছাদে ফাটলসহ বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আইনজীবীরা জানান, আদালত ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। ছাদসহ কয়েকটি অংশকে তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। প্রতিদিন আদালতে বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও বিভিন্ন মামলার বিচারপ্রার্থীরা আসেন। ফলে ভবনের কোনো অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাঁদের মতে, একটি অংশ ধসে পড়ার পর বিষয়টিকে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুরো ভবনের কাঠামোগত অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছাদ ও দেয়ালের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন